Thursday, November 3, 2022

নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বনশ্রী এখন থাকেন বস্তিতে, ফুল বিক্রি করে চালাচ্ছেন জীবিকা

এক সময়ের বাংলা চলচিত্রের চিত্রনায়িকা বনশ্রী। পুরো নাম সাহিনা সিকদার বনশ্রী। তিনি বাংলাদেশে অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন বনশ্রী। রেডিওর একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে জীবনের গল্প-এর মাধ্যমে বনশ্রীর কথা নতুন করে সংবাদ মাধ্যমে ফিরে আসে বনশ্রী।সাত বছর বয়সে তিনি শিবচর থেকে ঢাকায়

চলে আসেন।সে সময় তার বাবা ঠিকাদারির কাজ করতেন। তার দুই বোন এবং এক ভাই রয়েছে। ছেলেবেলা থেকেই বনশ্রী সংস্কৃতি চর্চার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন ফলে একসময় উদীচী গণসাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথেও যুক্ত হন। তিন ভালো গান করতেন। এরপর অভিনয় শেখার জন্য যোগ দেন সুবচন নাট্য সংসদে। বিটিভির স্পন্দন অনুষ্ঠানে নিয়মিত আবৃত্তি করেছেন। এছাড়াও প্রায় দশটির মতো বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
১৯৯৬ সালে ’সোহরাব-রুস্তম’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। এ ছবিতে তার নায়ক ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তবে তার জীবনের রঙিন গল্পটা ছিল খুবই অল্প সময়ের। কারণ বনশ্রী মাঝে দারিদ্র্যতার কবলে পড়ে বাসে বাসে বই বিক্রি করেছেন, ফুল বিক্রি করেছেন শাহবাগে। এক সময় আলিশান ফ্ল্যাটে থাকলেও বর্তমানে মোহাম্মদপুরের শেখের টেকের একটি বস্তিতে থাকেন তিনি। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিয়ের পর প্রোডাকশন হাউজের মালিক মোহম্মদ ফারুক ঠাকুরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তিনি বাংলা সিনেমায় আমাকে সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তবে তিনি শর্ত দিয়েছিলেন যে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে হবে। তাই ফিল্মে কাজ শুরু করেছিলাম বিয়ের বিষয় গোপন রেখেই।

ইলিয়াস কাঞ্চন, মান্না, রুবেল, অমিত হাসানসহ অনেকের সঙ্গে ফিল্মে প্রধান নায়িকা চরিত্রে কাজ করেছি। তবে চলচ্চিত্র জীবনের শুরুতে আমার একটা সময় বাধা হয়ে দাঁড়ালো পেটের সন্তান। যখন তার ক্যারিয়ারের সুবাতাস চলছিল তখনই বনশ্রী সন্তান সম্ভাবা হন। বনশ্রী মা হতে রাজি না হলেও ডাক্তার জানান, তার বাচ্চা অনেক বড় হয়ে গেছে। এখন নষ্ট করলে ভবিষ্যতে তার আর বাচ্চা হবে না। তাই বাধ্য হয়েই মা হন তিনি। কন্যা সন্তান শ্রাবন্তী আসে তখন পৃথিবীতে। এরপর কিছুদিন চলচ্চিত্রে কাজ করা হলেও পরে আর কাজ করা হয়ে ওঠেনি বনশ্রীর। চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে যান। পরে একটি ছেলে সন্তানও হয় তার। কিন্তু সংসারও ভেঙে যায়। চলচ্চিত্রে এত খ্যাতি আসার পরও কেন বই বিক্রি বা ফুল বিক্রি করতে হয়েছে আপনাকে? জবাবে তিনি বলেন, প্রথমত চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে স্বামীও আমাকে ছেড়ে দেয় ।

আমার মেয়ে সন্তান শ্রাবন্তীকে হারিয়ে ফেলি আমি। যখন মোহাম্মদপুর এলাকায় আসলাম তখন আমার বয়সও ছিল কম। একমাত্র ছেলে সন্তান আপন ছিল কোলে। এলাকায় তখন গুণ্ডা-মাস্তান বিভিন্নভাবে সমস্যা করতো। কোনো বাড়িতে দুই মাসের বেশি থাকতে পারি নাই। টাকা-পয়সাও একটা সময় শেষ হয়ে যায়। কী করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। তখন বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে বই বিক্রি ও পরে ফুল বিক্রি করেছি। বনশ্রী আরো বলেন, নায়িকা থাকাকালীন ঢাকা ক্লাবে একটা সময় যাওয়া আসা ছিল আমার। সেখানে কাজ করতেন জীবন ভাই। তিনি একদিন আমাকে রাস্তায় দেখে ফুল বিক্রির কাজ দেন। মাঝে মানিকগঞ্জের আসক্তি পুনর্বাসন নিবাস ’আপন’-এ কিছুদিন মানসিক চিকিৎসা নিয়েছিলাম। আর ছেলেকে বর্তমানে সাভারের একটি এতিমখানায় বড় করছি।

উল্লেখ্য, নেশা, মহাভূমিকম্প, প্রেম বিসর্জন, ভাগ্যের পরিহাস ইত্যাদী চলচ্চিত্রে একনাগাড়ে অভিনয় করেন চিত্র নায়িকা বনশ্রী। চলচ্চিত্র ছেড়ে দেয়ার পর আার্তিক অনটনের কারণে বর্তমানে তিনি ঢাকার শাহবাগের ফুল মার্কেটে ফুলের ব্যবসা করেন। ভবিষ্যতে শাহবাগে একটি ফুলের দোকান দেবার স্বপ্ন দেখছেন বনশ্রী

Latest news
Related news