Thursday, November 3, 2022

হারিয়ে যাওয়া বীরাঙ্গনার খোঁজে

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে এ পর্যন্ত অনেক সিনেমাই নির্মিত হয়েছে। আর যুদ্ধের সিনেমা মানেই পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ, রাজাকারদের বেইমানি। তবে যুদ্ধ-পরবর্তী নানা সময়ে এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। আর সে রকই এক ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছিল মায়া: দ্য লস্ট মাদার সিনেমাটি। এ সিনেমা কিছুটা হলেও মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী ঘটনা তুলে ধরতে পেরেছিল। সিনেমার ঘটনা আবর্তিত হয়েছিল একজন বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুকে নিয়ে।

বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের চিত্রকর্ম ‘নারী’ এবং কবি কামাল চৌধুরীর ‘যুদ্ধশিশু’ কবিতা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এ সিনেমা। সরকারি অনুদানে নির্মিত এ সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা মাসুদ পথিক। সিনেমায় দেখা যায়, দেশের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া বীরাঙ্গনাই সমাজে মূল্যায়ন পায় না। তার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। বড় হয়ে সে তার মায়ের খোঁজ করে। অন্যদিকে বীরাঙ্গনার ছোট মেয়ে মায়া। মা বীরাঙ্গনা হওয়ায় মায়ার সংসার ভেঙে যায়। বীরাঙ্গনার বাড়িতে আশ্রিত থাকে আরও এক যুদ্ধশিশু, যার সঙ্গে মায়ার প্রেম। এদিকে গ্রামের চেয়ারম্যান, ইমাম সবার কুদৃষ্টি থাকে মায়ার শরীরের ওপর।

এসবের মাঝেই কৃষিকাজ, পশুপালন করে সংসার চালায় মায়া। সমাজের কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে একঘরে আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচে; তবুও সমাজের অন্যায়-নিপীড়নের শিকার হয় সন্তানসম্ভবা মায়া। অন্যদিকে, বড় মেয়ে শহরে বেড়ে ওঠে, ভালো পরিবেশে। একসময় সে তার পরিবারকে ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

সিনেমায় অভিনয় করেছেন প্রাণ রায়, জ্যোতিকা জ্যোতি, দেবাশীষ কায়সার, সৈয়দ হাসান ইমাম, ঝুনা চৌধুরী, ভারতীয় অভিনেত্রী মুমতাজ সরকারসহ অনেকে। মায়া চরিত্রে দেখা মিলেছে জ্যোতিকা জ্যোতিকে। আর সঙ্গে রয়েছেন প্রাণ রয়, যে নিজেও একজন যুদ্ধশিশু। তাদের সম্পর্ককে সমাজ মেনে নেয়নি। গ্রামীণ পরিবেশ এ সিনেমার সবচেয়ে বড় আকর্ষণের বিষয়। একজন গ্রাম্য নারী যা যা করেন, আর সবটুকুই জ্যোতি দিয়েছেন, বলতে গেলে আদর্শ গ্রাম্য নারীর চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। পাশাপাশি পশুপ্রেমী প্রাণ রায়ও তার পুরোটাই দিয়েছেন। এ ছাড়া এ সিনেমায় যুদ্ধশিশুর চরিত্রে ছিলেন ভারতীয় অভিনেত্রী মুমতাজ। তিনিও তার চরিত্রের পুরোটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

চলচ্চিত্রটি ২০১৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ৫টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি ১৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছিল। বেস্ট ফিল্ম ও বেস্ট ডিরেক্টর ক্যাটাগরিতে ইন্দো-আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দুটি পুরস্কার অর্জন করেছে ‘মায়া: দ্য লস্ট মাদার’। এ ছাড়া সিনেমাটি আট ক্যাটাগরিতে ১০টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন ছাড়াও ৮টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে। ২২টি আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়েছে এখন পর্যন্ত।

সূত্র: সময় টিভি

Latest news
Related news