Friday, October 21, 2022

“গার্লফ্রেন্ডের প্রিয়বন্ধুর সঙ্গে পার্টিতে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা! এখন কী করব?”

আমি ৮ বছর ধরে সম্পর্কে রয়েছি। সম্পর্কের প্রথম দিকে সব ভালোই চলছিল। কিন্তু সময়ের পলি আমাদের ভালোবাসার উপরও পড়ে। একটা সময়ের পর অনেকটাই কমতে থাকে আমাদের বন্ডিং। আমার এখন আর তাঁকে প্রথমদিনের মতো ভালোলাগে না। আমার হৃদয়ের স্বাদ এই দীর্ঘ বছরে অনেকটাই বদলে গিয়েছে বলেই মনে হয়। আমাদের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়ে গিয়েছে। এবার কয়েকমাস আগে আমার গার্লফ্রেন্ডের ব্রেস্ট ফ্রেন্ডের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। এই মানুষটিকে আমার ভালোলাগে। একটা বন্ধন অনুভব করি সবসময়।

 

আমরা প্রায়ই দেখা করতে থাকি। তবে সবসময়ই আমাদের বন্ধুরা সঙ্গে থাকত। কোনও সময় একা দেখা করিনি। কিন্তু এই কিছুদিন আগে ঘটনা পরিক্রমায় আসে বদল। প্রথমবারের জন্য একা দেখা করব বলে ঠিক করি। এক্ষেত্রে একটি ক্লাবে দেখা হয়। প্রথমে সব ঠিকই চলছিল। কিন্তু রাত বাড়ার পর আমাদের মধ্যে অনুভূতি বাড়তে থাকে। একে অপরের প্রতি বাড়ে বাসনা। এরপর আমাদের মধ্যে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা শুরু। এবার এই কথাটা বলতে আমার খুবই লজ্জা হচ্ছে। বুঝতে পারছি, খুব বড় একটা ভুল হয়ে গিয়েছে। তবে আমি ভাবতেও পারিনি এতটা কাছে আমরা চলে আসব। এবার সবথেকে বড় মুশকিল হল, এই বিষয়টা নিয়ে নিজের বান্ধবীকে ঠিক কী বলব? ও সব শুনে কী ভাববে, এটা বুঝতে পারছি না! এর প্রভাব আমার জীবনেও পড়বে। এবার আমার প্রশ্ন হল, এই কথাগুলিকে কি আমি লুকিয়ে রাখব? নাকি সব সত্যি বলে দেওয়া উচিত? একজন বিশেষজ্ঞ যদি আমার সমস্যার সমাধান করে দেন।

 

আত্রেমিস হাসপাতালের সাইকোলজি বিভাগের প্রধান ডা: রচনা খান্না সিং বলেন, এটা বুঝতে পারছি যে এতদিনের একটি সম্পর্কের মধ্যে উঁচু-নিচু নানা সময় থাকবেই। তবে এরপরও আপনার কাজটিকে কোনওভাবেই সমর্থন করা যায় না। আপনি সঙ্গীর প্রতি অবিচার করেছেন। এক্ষেত্রে সোজা ভাষায় আপনি নিজের বান্ধবীর সঙ্গে করেছেন বিশ্বাসঘাতকতা। আর এই বিশ্বাসঘাতকতার ক্ষেত্রে আপনি বেছে নিয়েছেন তাঁর সবথেকে কাছের বন্ধুকে।

 

আমি বুঝতে পারছি যে আপনি নিজের ভুল অবশ্যই বুঝে নিয়েছেন। আর আপনি দুঃখিত এবং লজ্জিত, এটাও আপনি বলেছেন। তবে সত্যি বলতে, আপনি যদি এখন জিজ্ঞেস করেন আপনার কী করা উচিত, আর কী করা উচিত নয়- সেই উত্তর দেওয়া হবে খুবই কঠিন। এই পরিস্থিতিতে কী ভালো হতে পারে, তা আপনিই কেবল বলতে পারেন। তাই নিজের পরিস্থিতি নিয়ে একটু বেশিই সতর্ক থাকুন।

 

আপনি নিজের সঙ্গীকে সবটা বলার জন্য তৈরি হয়ে যেতেই পারেন। তবে খুবই খারাপ একটি পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করার জন্যও আপনাকে প্রস্তুত হতে হবে। কারণ কোনও মানুষই বিশ্বাসঘাতক (Cheater) পছন্দ করেন না। আর অপরদিকে আপনি যদি তাঁকে গোটা ঘটনার কথা না বলেন, তবে নিজের মধ্যে পাপবোধ নিয়মিত বাড়তে থাকবে। তখন মানসিক সমস্যায় ভোগাও সম্ভব।

 

এই সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে গেলে আপনাকে মানসিকভাবে ভীষণ শক্ত হতে হবে। কিন্তু তার আগে আরও একবার ভেবে নিন আপনার জন্য ঠিক কোন কৌশল খাটতে পারে। সেই মতো নিজেকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এবার আপনি যদি এই বিষয়টা নিয়ে ভাবার জন্য আলাদা করে সময় নিতে চান, তবে নিন। কোনও তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই।

 

আপনার নিজের মতামত এক্ষেত্রে ভীষণ প্রয়োজনীয়। আপনি নিজেই বলেছেন যে প্রায় ৮ বছর এই সম্পর্কে আপনি রয়েছেন। এবার নিজের সঙ্গীর সঙ্গে কোনও সংযোগ এখন আপনি খুঁজে পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে সময় নিয়ে ভাবুন আপনি এই সম্পর্ক থেকে কী চান! আপনি এই সম্পর্কে থাকতে চান, নাকি এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যেতে চাইছেন। এই সিদ্ধান্তটা খুবই জরুরি।

 

তবে এখানে আমার বক্তব্য হল, একটি সম্পর্ক বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে পারে। এই অবস্থায় দুজনের থেকে দূরে সরে যেতেই পারেন। তবে একটু চেষ্টা করলে সম্পর্কে ফের উষ্ণতা ফিরতে পারে। তখন ভালো থাকা হবে সম্ভব।

 

প্রতিবেদন সৌজন্যে: নবভারত টাইমস

Latest news
Related news