Friday, October 21, 2022

জেনে নিন বাড়ি থেকে চিরতরে আরশোলা দূর করার পাঁচটি সহজ টিপস

দৈনন্দিন জীবনে আরশোলা একটি অত্যন্ত বিরক্তিকর পতঙ্গ। আমাদের চারপাশে অনেকেই ছোট এবং বড় বাচ্চা বিশেষ করে মহিলারা আরশোলাকে ঘেন্না এবং ভয় করেন। অধিকাংশ বাড়িতেই কমবেশি আরশোলার উপদ্রব দেখা যায়। আরশোলা থেকে বিভিন্ন রকমের রোগ জীবানুও ছড়ায়।
আর এই গরম পড়লেই এই পতঙ্গের উপদ্রব আরো বাড়ে। বাথরুমের কোনা, রান্নাঘরের তাক এমনকি অফিসের দরকারি কাগজপত্রের উপর হামলা করে এই পতঙ্গ। অনেকেই এই পতঙ্গের উৎপাতে নাজেহাল।
তবে আজ এই প্রতিবেদনে আরশোলা থেকে সহজে মুক্তির টোটকা শেয়ার করা হলো।
কয়েকটি ঘরোয়া সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে এই আরশোলাকে ঘর থেকে চিরতরে দূর করা সম্ভব।
১) তেজপাতা-
রান্নাঘরে আমাদের প্রত্যেকেরই মসলার কৌটোয় তেজপাতা থাকে। অল্প পরিমাণ তেজপাতা নিয়ে ভালোভাবে শুকনো কাঠ খোলায় ভেজে গুরিয়ে নিতে হবে। এরপর ওই তেজপাতার গুড়ো একটি কৌটোয় ভরে রাখুন।সপ্তাহে ১-২ বার ঘরের প্রতিটি কোনায় সেই গুঁড়ো অল্প পরিমাণে ছড়িয়ে দিন। তেজপাতার থেকে যেই উগ্র ঝাঁঝালো গন্ধ বেরোয় তা আরশোলা সহ্য করতে পারে না। তার ফলে ঘরের আরশোলার উপদ্রব কমবে।
২) অ্যামোনিয়া-
বাজারে বিভিন্ন রকমের আরশোলা মারার রাসায়নিক পদার্থ বিক্রি হয়। তবে সেগুলি সরাসরি বাড়িতে এনে ব্যবহার করা উচিত নয়। আপনি চাইলে ঘরেতে ৫ লিটার জলের মধ্যে দুই কাপ তরল অ্যামোনিয়া মিশিয়ে রাখতে পারেন। এবার সপ্তাহের দু-তিনদিন সেই তরল দিয়ে ঘর মুছতে হবে। এতে ঘরে আরশোলার উপদ্রব কমবে।
৩) বোরিক পাউডার-
আরশোলা মারার টোটকা হিসেবে বরিক পাউডারও খুব কাজের একটি জিনিস। অল্প ভাতের সাথে বরিক পাউডার মিশিয়ে ঘরের বিভিন্ন কোনায় ছড়িয়ে দিন। আরশোলা এই ভাত খেলেই মারা যাবে। এর থেকে আরশোলার উৎপাত অনেক কমবে।
৪) চিনি এবং বেকিং সোডা-
আরশোলা সাধারনত চিনি খেতে খুব ভালোবাসে। তাই চিনির সাথে বেকিং সোডা মিশিয়ে যদি ঘরের কোনায় ছড়িয়ে রাখেন সেই চিনি খেলে আরশোলা মারা পড়বে।
৫) লবঙ্গ ও গোলমরিচ-
লবঙ্গ এবং গোলমরিচ একসাথে কাঠখোলায় ভালোভাবে ভেজে নিন। এবার মিক্সিতে গুরিয়ে নিন। লবঙ্গ এবং গোলমরিচের গুড়ো একটি স্প্রে বোতল জলের মধ্যে মিশিয়ে ভরে রাখুন। ঘরের কোনায় কোনায় যে পথ দিয়ে আরশোলা বেশি যাতায়াত করে। সেখানে এই স্প্রে করে রাখুন। দেখবেন আরশোলার উপদ্রব কমে গেছে।
তবে এই সমস্ত টোটকা গুলোর সাথে সাথে নিজের ঘর দুয়ার আপনাকে সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ঘরের মেঝে প্রতিদিন মুছুন। জামাকাপড়ে ন্যাপথলিন দিয়ে রাখুন । কোন খাবার আঢাকা রাখবেন না। যাতে আরশোলা বা অন্যান্য কীটপতঙ্গ না পড়তে পারে। এই সমস্ত পদ্ধতি অবলম্বন করলেই আপনি এই পতঙ্গের হাত থেকে সহজে মুক্তি পাবেন।

Latest news
Related news