মি’লনে উৎসাহ হারিয়ে যাচ্ছে- কি করবেন

Share

বর্তমানে পার্টনারের সাথে শারীরিক মিলনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলার সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। বিশেষত মহিলাদের মধ্যে এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে একটু বেশি। তার ফলে মনোমালিন্য হচ্ছে, সম্পর্কে ফাটল ধরছে।

কেন উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং মনোবিদরা এর অনেক কারণই আছে বলছেন (how to be sexually satisfied in a relationship)। তার মধ্যে প্রধান কয়েকটি কারণ নিয়ে আজ আলোচনা করব।

শারীরিক অসুস্থতা
অনেকেই সারাবছর বিভিন্ন শরীর খারাপে ভোগেন। জ্বর, পেটখারাপ এসব বাদ দিলেও ডাস্ট অ্যালার্জি, সাইনাস, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড এরকম গাদাখানেক রোগ এখন আমাদের শরীরে এসে বাসা বাঁধে যার ফলে ভেতর থেকে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন অনেকেই। সারাদিন কাজের পর ঘুমোতে ইচ্ছে করে খুব। তাই সমস্যার শুরু হয়..

মানসিক সমস্যা
মনের তল পাওয়া কঠিন এ তো আমরা জানি! তাই মানসিক সমস্যা সিরিয়াস একটা কারণ তো বটেই। এখন ডিপ্রেশন, স্ট্রেস এগুলো আমাদের জীবনের অঙ্গ হয়ে গেছে। মন ঠিক না থাকলে শরীরের উৎসাহও হারিয়ে যায় (how to be sexually satisfied in a relationship)।

কাজের চাপ
এই প্রবলেম দু’তরফা অবশ্যই। আপনার নিজের যেমন কাজের চাপ থাকে তেমনই হয়ত আপনি অপেক্ষা করছেন পার্টনারের জন্য আর তিনি কাজের চাপে সময় দিতে পারছেন না (how to be sexually satisfied in a relationship)। এরকম চলতে থাকলে আস্তে আস্তে মানসিক দূরত্ব বাড়তে থাকে। যার প্রভাব শারীরিক সম্পর্কে দেখা যায়।

ভার্চুয়াল দুনিয়া
এখন তো এই জিনিসই সতীনের রোল প্লে করে ফেলছে আমাদের জীবনে! আপনি রাতের বেলায় তার পছন্দের নাইট ড্রেস পরে অপেক্ষা করছেন প্রিয় মানুষটার জন্য আর সে মক্কেল তখন ফোনের মধ্যে মুখ গুঁজে গেম খেলে চলেছে। আপনি দু-তিনবার ডাকার পরেও যখন সে সাড়া দিল না, ঘুমিয়ে পড়লেন আপনিও পাশ ফিরে। গভীর রাতে বিছানায় এসে সে দেখল আপনি ঘুমিয়ে কাদা!

সন্তানের উপস্থিতি
অনেকেই পড়ার পর ভাববেন এটা লেখার কোনও মানে ছিল না। বিশ্বাস করুন ছিল। সন্তান যেমন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালবাসা বজায় রাখে আবার বাচ্চার অতিরিক্ত উপস্থিতি সেই ভালবাসা কমিয়েও ফেলে। এটা যারা মা তাঁদেরকে বিশেষ করে বুঝতে হবে (how to be sexually satisfied in a relationship)। কারণ বহু পুরুষের এই আক্ষেপ থাকে যে বাচ্চা হওয়ার পর আর স্বামী সঙ্গের প্রয়োজন বোধ করেন না অনেক মহিলা। যা ঠিক নয় একদমই..

মিলনের সময় পার্টনারের ডমিনেটিং প্রবৃত্তি
অনেকে এই সমস্যার জন্য সেক্স করতে রাজি হন না। শারীরিক মিলন মানে ভোগ করা নয়। দুজনে সম্মত এবং সমানভাবে অ্যাক্টিভ থাকলেই সম্পূর্ণ আনন্দ উপভোগ করা যায়। পার্টনারের সাথে এ বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলুন। তাকে জানান আপনার প্রবলেম হচ্ছে তার ডমিনেটিং নেচারের জন্য।

দাম্পত্যে একঘেয়েমি
বিয়ের চার-পাঁচ বছর পর থেকে এই একঘেয়েমি আরো বেশি ঘিরে ধরে। তাই দরকার কোয়ালিটি টাইম কাটানোর (how to be sexually satisfied in a relationship)। বাকি সব সম্পর্কের জাল থেকে বেড়িয়ে এসে শুধু দুজনে একসাথে টাইম কাটান। তাহলে নতুন করে সেই টান ফিরে পাবেন আবার..

এর সমাধান কী
সবার আগে আপনারা দুজন মুখোমুখি বসে এই উৎসাহ না পাওয়ার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করুন। অনেক সমস্যা কথা বলাতেই মিটে যায়।মাঝে মাঝে একে অপরকে হাগ করুন, মুখে বলুন ভালবাসি। যত পুরনো সম্পর্কই হয়ে যাক না কেন, কিছু সময় নতুনের মত রোমান্স করুন।

পুরুষদের বলছি আপনার প্রিয় নারীর জন্য মাঝে মাঝে সারপ্রাইজ গিফট আনুন। পকেটের দিকে তাকাচ্ছেন অমনি? আরে বাবা ফুচকা,চকলেট, ফুল আর চুমু- আপাতত এই যথেষ্টরাতে শোওয়ার সময় দুজনের মোবাইল যেন ধারেকাছে না থাকে।এক সময়ে দুজনে শুতে যাওয়া প্র্যাকটিস করুন।

সারাদিনের গল্প করুন শুয়ে শুয়ে। একে অপরের সাথে এভাবে সময় কাটানোটাও দরকার।সন্তানের শোওয়ার ঘর আলাদা করে দিন চার-পাঁচ বছর বয়স থেকেইশরীর ঠিক রাখতে দুজনেই এক্সারসাইজ করা শুরু করুন।সম্পর্ক আগে হেলদি করুন, শারীরিক সম্পর্কে অটোমেটিক উৎসাহ পেয়ে যাবেন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *